বাংলাদেশ

একজন এপারে, অন্যজন ওপারে

একজন এপারে, অন্যজন ওপারে- নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত প্লেনের পাইলট ক্যাপ্টেন আবেদ সুলতান জীবিত আছেন। তবে মারা গেছেন সহকারি পাইলট পৃথুলা রশীদ।

বিমানটির পাইলট ক্যাপ্টেন আবেদ সুলতানের ৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এয়ারলাইন্সটির জিএম (পিআর) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এয়ারফোর্স ব্যাকগ্রাউন্ডের পাইলট আবেদ সুলতান আগে বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ছিলেন। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ক্রু ছিলেন খাজা ও নাবিলা। তারাও মারা গেছেন।

অন্যদিকে সোমবার নেপালের গণমাধ্যম মাই রিপাবলিকা জানায়, সিনামঙ্গল এলাকায় অবস্থিত কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কেএমসি) কর্তৃপক্ষ আহতদের মধ্যে আটজনের মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। নিহত ক্রুরা হলেন- পৃথুলা রশীদ, রকিবুল হাসান এবং খাজা হোসাইন।

আরো খবর পড়ুনঃ

হাসি আইসিইউতে নাকি মারা গেছেন?

হাসি আইসিইউতে নাকি মারা গেছেন?

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবীর হাসি ও তার স্বামী রাকিবুল হাসান মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়েছিলেন নেপালে। বিধ্বস্ত উড়োজাহাটিতে ছিলেন তারা। ঘটনার পর থেকে তাদের ব্যাপারে কোন সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না।

কখনও শোনা যাচ্ছে তিনি আইসিইউতে অাবার কখনও তিনি মারা গেছেন বলে খবর প্রকাশ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত তাদের পরিবার।

তিন বছর টানা শিক্ষকতা করার পর ঘটা করেই ছুটি নিয়েছিলেন কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসি। সিনিয়র প্রকৌশলী স্বামীসহ ছুটি কাটাতে তাই তার নেপাল যাত্রা। কিন্তু তিনি বা তার স্বামী বেঁচে আছেন না মারা গেছেন তা নিশ্চিত হতে পারেননি তার উৎকন্ঠিত সহকর্মীরা।

ইউএস-বাংলার বিমানে করে নেপালে রওনা হওয়ার আগে বিমান বন্দরে বেশকিছু ছবি হাসি তার ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন। নেপাল বিমান বন্দরে পৌঁছার পর তাদের বিমানটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়।

রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক কামরুজ্জামান সরকার জানান, হাসি ছিলেন কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। আর স্বামীর বাড়ি ঢাকায়।

তার স্বামী ঢাকার একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে সিনিয়র প্রকৌশলী পদে কর্মরত ছিলেন। হাসি বেঁচে আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নই। কোন সময় খবর পাচ্ছি সে আইসিইউতে আছে। আবার কখনো খবর পাচ্ছি সে স্বামীসহ মারা গেছে।

আজ সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রু ও ৬৭ আরোহীবাহী বাংলাদেশি বেসরকারি এ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

এতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।

এসটু-এইউজি মডেলের ৭৮ সিটের ওই বিমানটি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও সেনা সদস্যরা।