বাংলাদেশ

পাইলটের শেষ কথা কী ছিল তা জানা গেল, তাহলে এমন হল কেন!

পাইলটের শেষ কথা কী ছিল- বিমানবন্দরে নামার অনুমতি পেয়ে পাইলট কন্ট্রোল রুমকে জানিয়েছিলেন, তিনি উত্তর দিকে বিমানটিতে অবতরণ করাতে চান। এসময় কন্ট্রোল রুম থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। কোনো সমস্যা নেই- জানিয়েছিলেন পাইলট।

পরে অবতরণের আগ মুহূর্তে দুইবার চক্কর দেয় বিমানটি। এসময় কন্ট্রোল রুম থেকে পাইলটের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সবকিছু ঠিক আছে কি না। জবাবে ঠিক আছে বলে জানান পাইলট।

পাইলটের শেষ কথা কী ছিল তা জানা গেল, তাহলে এমন হল কেন!

যখন অবতরণ করছিল বিমানটি, তখন অসঙ্গতি দেখে কন্ট্রোল রুম থেকে ‘উড়োজাহাজটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না’ বলে পাইলটকে জানানো হলেও পাইলটের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এরপর পাইলটের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি কন্ট্রোল রুমের।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রীর বরাত দিয়ে রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

রাজ কুমার রয়টার্সকে বলেন, অবতরণের সময় যথাযথ নির্দেশনায় থাকা উচিত ছিল বিমানটির। কিন্তু কোনো কারণে ওই নির্দেশনায় ছিল না। পরে বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় বিমানটিতে।

পাইলটের শেষ কথা কী ছিল তা জানা গেল, তাহলে এমন হল কেন!

রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা জানিয়ে পাইলট কন্ট্রোল রুমকে কোনো সংকেত পাঠিয়েছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তবে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। পরীক্ষার জন্য সেটি পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে।

এস২-এডিইউ মডেলের ৭৮ আসনের টুইন টার্বো প্রোপ বিমানটি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এরপর পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু ছিলেন।

আরো খবর পড়ুনঃ

৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাইয়ের অভিজ্ঞতা ছিলো পাইলটের

বিধ্বস্ত প্লেনের পাইলট জীবিত আছেন উল্লেখ করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন আবেদ সুলতানের ৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এয়ারলাইন্সটির জিএম (পিআর) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এয়ারফোর্স ব্যাকগ্রাউন্ডের পাইলট আবেদ সুলতান আগে বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ছিলেন। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ক্রু ছিলেন খাজা ও নাবিলা।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ২০ জন। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১০ জন।

সোমবার (১২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এর আগে, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ জন ছিলেন।